এরকম হাজার হাজার SMS।
পরিচিত কয়েক জনকে রিপ্লাই দিতে চেয়েও আবার দেয়া হলনা।
"না, এখন রিপ্লাই দেয়া ঠিক হবেনা। ওদিকে ফাইনাল মেইলটা এখনো আসেনি। ডিলটা আগে পাক্কা হয়ে যাক। আপাতত চুপ থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।"
হোয়াইট হাউসের বাংকারের ভিতর একাকী বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছে.... ডোনাল_ট্রাম্প !! বিভিন্ন দিক চিন্তা করে আপাতত কোনো SMS এর রিপ্লাই দিলনা সে। ভাবনার অতল গহব্বরে ডুবে যায়......ট্রাম্প চাচা।
"শালার জীবনটাই নীল হয়ে গেল....!! সকাল হতে নাহতেই এক এক দেশ থেকে শুধু ফোনের উপর ফোন। এখানে তালেবানের মিসাইল নিক্ষেপ, ওখানে হামাসের জঙ্গি হামলা। ঐদেশে আল-কায়দার ড্রোন এট্যাক। ইরাক ঘাঁটিতে ইরানের জটিকা আক্রমণ। ফিলিস্তিনে এতজন ইজরাইলী সেনা নিহত। গাজায় এতজন মার্কিন অফিসার বন্দী, আফগানিস্থানে মার্কিন গোয়েন্দা অপহরন। এদিকে নাক চেপটা অলাদের জীবানু অস্ত্র ছড়ানোর খবর...,,ওদিকে উত্তর কোরিয়ার পাগলা কুত্তাগুলো নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড এর ব্যালেস্টিক বাটনে কখন টিপ দিয়ে বসে....??
মরার...টেনশনে আর বাঁচিনা !!"
"কি ভুলটাই না করলাম জীবনে! এই রাজনীতির জন্য কত কিছুই না ত্যাগ করলাম। নিজের এতবড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান "ট্রাম্প অর্গানাইজেশন" ছাড়লাম। নিজের হাতে গড়া ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফাইভ স্টার হোটেল নিলামে তুললাম। হলিউড ইন্ডাস্ট্রী ছাড়লাম। পর্ণ ফ্লিমের কাঁচা ডলার কামাই বাদ দিলাম। পরীর মত সুন্দরী ললনাদের উষ্ণ ভালবাসা-সবকিছু ত্যাগ করলাম শালার এই রিপাবলিকান আর ডেমোক্রেটিকদের জন্য।"
"স্পেসজুড়ে নাসার একছত্র আধিপত্য, লক্ষ লক্ষ টন নিউক্লিয়ার স্টক, বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন পেট্রো ডলার, মিডলইস্টের কেপিটাল কন্ট্রোল, বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বিক্রী; তাতে আমার কি লাভ...?? লাভ যা হচ্ছে আমেরিকানদের। সাড়ে ৪ হাজার এটম বোমা কোন কাজেই আসলনা। ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ১টি করোনার জীবানু মারতে মারলাম না। নাক চেপটা অলাদের জীবানু অস্ত্রের এক মাইরে দেড় লাখ অলরেডী শেষ। সিরিয়ালে আছে আরো ২৫ লাখ।"
"ওদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতারা করোনা জয় করে বিশ্বকে তাক লাগাই দিছে। তাদের কয়েকজন মন্ত্রী হার্ট এটাকে নিজের জীবন উৎসর্গ করে প্রমাণ করে দিছে, করোনা তাদেরকে মারতে পারে নাই। তারা করোনার চেয়েও শক্তিশালী। আর আমরা...??"
"আমার কপ (আমেরিকান পুলিশ) মিনিয়াপোলিসের এক নগন্য কাল্লু জর্জ_ফ্লয়েডকে মাইরাই খেল খতম। সারা আমেরিকা বেসামাল। ওদিকে আওয়ামী লীগের একটা ছোট্ট উইংস র্যাবলীগের সদস্যদের পেঁদানীতে মাত্র ৪০ মিনিটে শাপলা চত্তর ফাঁকা। ২০ লক্ষ হেফাজত কর্মী হাওয়ায় মিলে গেল। আর শুধু একটা কৃষ্ণাঙ্গ মার্ডারের জন্য প্রোটেস্টারদের দোঁড়ানি খেয়ে সেই যে বাংকারের ভিতর আইসা ঢুকলাম, প্রায় ১ মাস হয়ে গেল, এই নরক থেকে আজো বের হতে পারলাম না।
শালার মান সম্মান আর রইলনা......!! এক্কেবারে ধুলায় মিশে গেল !!!"
"দু'বেলা দু'টো করে পিগ বার্গার আর ২পিস হাফ লিটার কোল্ড পেপসি। সকালে এক বাটি স্কুইড স্যুপ আর এক কাপ লেমন টি। রাতে এক প্লেট পর্ক পাইস (শুকরের মাংস ফ্রাই) আর দু"পেগ হুইস্কী। কোথায় নাইট ক্লাব, কোথায় বেলী ডান্স, কোথায় ডিজের বিট আর সেম্পেনের সেলিব্রেটি....!! এভাবে কি জীবন চলে..??"
"নাহ...আর হবেনা...!! সিদ্ধান্ত যেটা নিছি সেটাই। কিছুতেই বদলাব না।"
ডোনাল ট্রাম্প শুয়ে শুয়ে প্রার্থনা শুরু করল। "হে ঈশ্বর, আমার ডীলটা ফাইনাল করে দাও। দয়া করে আমাকে এই সুযোগটা দাও। তোমার কাছে আমি আর কিচ্ছু চাই না। আমার জীবন সার্থক হবে যদি এই সুযোগটা আমি পাই। আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না প্রভু.........ইত্যাদি"।
এক সময় ঘুমিয়ে গেল ট্রাম্প । হঠাৎ মোবাইলের এলার্ট টুন বেজে উঠল। প্রার্থনার জোরেই কিনা কে জানে ট্রাম্পের কাছে ফিরতি মেইলটা চলে আসল। ইমেইল পড়ে সে মহাখুশী...!! ডীল ১০০% ফাইনাল...!!!
ভাগ্য ভালো, বৃটেনের_বন্ধু_বরিস_জনসনের কল্যানে আগেভাগেই খবরটা নজরে আসে। BBC NEWS এর লিংকটা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে সেনড করে বড় উপকার করেছে সে। হাজার হলেও জ্ঞাতি ভাই। সে লিংকটা না পাঠালে এ মূল্যবান ডীলটা হয়তো সাবমিট-ই করা হতোনা। তাকে অনেক ধন্যবাদ। ভাগ বাটোয়ারার কিছু অংশ তাকেও দিতে হবে।
ট্রাম্প সাথে সাথে অনলাইনে নতুন পার্টির সদস্য ফর্মটি পূরণ করে ফেলল তারপর প্রেসিডেন্ট পদের রিজাইন লেটারটা হোয়াইট হাউসের ইমেলে কম্পোজ করে পাঠিয়ে দিল।
সকালে শেষবারের মতো হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট কক্ষে ঢুকে সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে ডোনাল ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির নেতা মন্ত্রী সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সবাই উপস্থিত। সবার মন খারাপ।এতদিনের পুরনো সহযোদ্ধার বিদায়ের বিরহে সবার চোখ ছল ছল করছিল।
এক পর্যায়ে ডোনাল ট্রাম্পও হু হু করে কেঁদে ফেলল। অনেকদিনের পার্টি ছেড়ে যেতে খারাপ লাগারই কথা। ট্রাম্পেরও তাই খারাপ লাগছে। সে কান্না থামাতে পারছে না। চোখের পানিতে সার্জিক্যাল মাস্ক ভিজে মুখের সাথে লেগে গেছে।
কাঁদলে কি হবে, মনে মনে কিন্তু ডোনাল ট্রাম্প খুবই খুশি। তার লাফাতে ইচ্ছে করছে। এতদিন পর সে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পেয়েছে। এতগুলো বছর সে এমন একটা সুযোগের অপেক্ষা করছিল। মাঝে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছে, তাতেও তার কুলাচ্ছিল না। টাকার জন্য পর্ণ ছবিতে কাজ করেছে। বিরাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছে, অনেক বড় ধনী হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টও হল। তবু তার মন ভরেনা। সে তলে তলে সবসময় এমন একটা ড্রিমী_অপর্চুনিটি খুজে বেড়াতো।
কিছুক্ষন পর সবাই খেয়াল করল ডোনাল ট্রাম্প দৌড়াচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব সে প্লেনে উঠতে চায়। নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নামতে চায়। এরকম একটা মিশনের জন্য সে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ছে, রিপাবলিকান পার্টি ছাড়ছে, ব্যবসা ছাড়ছে, সংসার ছাড়ছে। এ নতুন মিশন তার কাছে আলাদিনের চেরাগ, সোনার হরিণ।আজ সে নতুন মিশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকা ছাড়ছে। ট্রাম্পের বউ আকুল নয়নে কাঁদছে, ওগো, আমায় ভুলে যেও না। ইমুতে কল দিও।
ডোনাল ট্রাম্প হাসল। টাইম পাইলে দিমুনে -বলেই সে লম্বা লম্বা ধাপে সোজা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরল।
এয়ারপোর্টে এসে ডোনাল ট্রাম্প দেখল সাংবাদিকরা ভিড় করে আছে!
সবাই কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইল -"স্যার, সবকিছু ছেড়ে আপনি কই যান?"
ডোনাল ট্রাম্প দাঁত কেলাতে কেলাতে উত্তর দিল - "বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগে যোগ দিছি।"
সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন -"কেন স্যার?"
ট্রাম্প -"মোদী_দাদা গ্রীণ সিগন্যাল দিছে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আমারে বানাইতাছে। ডীল একদম পাক্কা।"
সাংবাদিক -"কিন্তু কিভাবে স্যার?"
ট্রাম্প - নেক্সট_ভোটার_লেস_ন্যশনাল_ইলেকশনে জাস্ট কয়েক ঘন্টা শোয়িং অফ কত্তে অইবো, ব্যাস। তাই আগেভাগে গিয়া জনগনের লগে একটু.....হা হা
বুজলেন তো...!!
সাংবাদিক -"কিন্তু বাংলাদেশে এত যোগ্য লোক থাকতে আপনাকে কেন প্রধানমন্ত্রী বানাচ্ছে?"
ট্রাম্প -"আর কইয়েন না, সব বেঈমান। কেউ কথা রাখেনা।"
সাংবাদিক -"তো...আপনি কি কথা দিয়েছেন স্যার?"
ট্রাম্প -"তেমন কিছুনা না। প্রধানমন্ত্রী অওনের পর সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আর সেন্টমার্টিন টা দাদারে এককালীন লিখ্যা দিতে অইবো।"
এদিকে প্লেন ছাড়ার সময় হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের পাশ কাটাতে চাচ্ছে সে। কিন্তু সাংবাদিকরাও নাছোড় বান্দা, ভীষণ সাংগাতিক এরা !!
সাংবাদিকরা একেবারে হুমড়ি খেয়ে --"স্যার, স্যার..,, স্যার আরেকটি প্রশ্ন, তাতে আপনার কি লাভ?"
------------------------------------------------------------------------
No comments