• সাম্প্রতিক

    পরীর সাথে প্রেম - পর্ব ১ (ভূতুম ভূতু)


    একদল বালক বালিকা আমায় তাড়া করছে । আমি সাঁতারের মত দুই হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে উড়ছি । আহা সে কী অনুভূতী । হুট করে মনে হলো ভূমিকম্প শুরু হয়েছে । চারদিক ভোঁ ভোঁ করছে । হায় কপাল একি তবে স্বপ্ন ছিল ? 
    -
    মোবাইলের এলার্মটা বন্ধ করে দিলাম । মোবাইলের ভাইব্রেশনের জন্য কয়টা মটর বসায় জানিনা । এই ক্ষুদ্র যন্ত্রটা কী করে গোটা খাটকে কাঁপাতে পারে বুঝিনা । কোনরকমে চোখ দুইটা আলতো খুলে এলার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম ।
    -
    ওইদিকে শুনছি আযান হচ্ছে । কেউ আবার গজলে সূর তুলছেন । কেমন যেন এক অনুভূতি । কী দরকার এত ভোরে ডাকাডাকি করার ? সবচাইতে মজার ঘুমটাইতো হয় এই সময় ।
    -
    ভাবতে ভাবতে আবারো ধাম ধাম টিনের বেড়ায় শব্দ । হায় হায় মোবাইলের ভাইব্রেশন টিনের বেড়ায় গেল কীভাবে ? হাতড়ে দেখি মোবাইল আমার কাছেই আছে । ওহ আচ্ছা তাহলে ওটা আব্বাজানের এলার্ম । নাহ তাহলে আর ওটা বন্ধ করার উপায় নেই । এখন উঠে মসজিদে যেতেই হবে ।
    -
    কালক্ষেপন না করে উঠে অজু করে রওনা হলাম । আহা বাহিরে যেতেই মনে হলো জান্নাতের শীতল বাতাস । এখন আর মোটেও ঘুম পাচ্ছেনা । এখন ভালোই লাগছে । আমি তো জানি ভোরে শয়তানের ধোকায় এত ঘুম আসে । ভোরের ঘুম শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয় ।
    -
    আব্বার এলার্মের তাড়ায় ভুলে অন্য রাস্তা দিয়েই চলে এসেছি । এই রাস্তাটা দিয়ে তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া যায় । কিন্তু সমস্যা হলো রাস্তার মাঝে শিমুল বাগটা । ওখান দিয়ে যেতে একটু ভয় ভয় লাগে । একটু না অনেকটাই । তবে আমার সমস্যা নেই । যাইহোক চলেই যখন আসছি তবে আর এত ভেবে কাজ নেই ।
    -
    এখনো অন্ধকার চারিদিক । শিমুল বাগের কাছাকাছি চলে আসছি । জায়গাটা আস্ত এক আমাজন জঙ্গল । তাও এমন অন্ধকারে আরো বেশী গভীর লাগছে । শিমুল বাগের মধ্যখানে যেতেই লক্ষ করলাম একটা কালো কুচকুচে বোরকা পরিহিত কেউ আসছে । মনে হলো সে আমায় দেখল । আমায় দেখেই একটা মোটা শিমুল গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেল । আশ্চর্য এত ভোরে এই মেয়ে বা মহিলা কই যায় ? আর আমায় দেখে লুকিয়ে গেল কেন ? এখনো তো রাতের মত চারদিক অন্ধকার । আমি চলছি মোবাইলের ফ্লাস ব্যবহার করে ।
    -
    আমি মোটা গাছটা অতিক্রম করার সময় মোবাইলের ফ্লাসটা একটু গাছের দিকে কাত করে খেয়াল করলাম । সে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে । এই আধো আলোতে তার চোখজোড়া দেখা যাচ্ছে । যেন হিরের মত জ্বলজ্বল করছে । এটা যে একটা মেয়ে তাতে আর সন্দেহ নাই । দেখলেই বোঝা যায় । গাছটা অতিক্রম করে চললাম । সামনে গিয়ে পিছু ফিরে গাছটার দিকে তাকালাম । মেয়েটাকে আর দেখছিনা । গাছের আড়ালে বা রাস্তায় কোথাও দেখছিনা । আমি কৌতূহল নিয়ে আবারো পেছন ফিরে আসলাম । গাছটার কাছে গেলাম । কেউ নেই কিন্তু একটা খাতা পড়ে আছে ।
    -
    খাতাটা মেয়েটার স্পর্শে উষ্ণ হয়ে আছে। খুলে দেখলাম সব লেখা আরবীতে । এত সুন্দর লেখা মনে হয় জীবনে দেখিনাই । কিন্তু মেয়েটা আমায় দেখে এত ভয় কেন পেল বুঝলামনা । মেয়েটার একটা ব্যাগও নেই । নিশ্চই গরীব ঘরের হবে । তার এই খাতাটা না পেলে নিশ্চই সমস্যা হবে । কী করব এখন ? এমন ভোরবেলা সে কী কোথাও পড়তে যায় ? আজব লাগলো বিষয়টা । কাল আবার এদিক দিয়ে আসবে তো ? আচ্ছা আমি কাল এখানে দাড়িয়ে থাকব । আসলে নাহয় দিয়ে দেব । আপাতত খাতাটা নিয়েই মসজিদে চলে গেলাম ।
    -
    পরেরদিন ফজরের আগেই আমি উঠে পড়লাম । খাতা থেকে কয়েক পৃষ্ঠা কাগজ ছিঁড়ে রেখে দিয়েছি লেখাগুলো ভালো লাগায় । ঘুটঘুটে অন্ধকারেই শিমুল বাগে চলে গেলাম । জানিনা এত সাহস কোথা থেকে এলো । যদিও আমি এসব রাতের বেলা চলা ফেরায় ভয় করিনা ।
    -
    দাড়িয়ে আছি । হঠাৎ মনে হলো কেউ আসছে । এ নিশ্চই সেই মেয়েটাই । কিন্তু আজ এত আগেই সে আসছে?? বুঝলামনা কিছু । ভোর রাত থেকেই ক্লাস হয় নাকি ? এমন মাদ্রাসা আছে ? তাও কিনা মেয়েদের ! বাবা মা এমন ভোর রাতে মেয়েকে বের হতে দেয় কোন সাহসে? নাহ কিছু ভাবতে চাইনা । আমায় দেখলে আবার ভয়ে দৌড় দিবেনা তো ?? এক কাজ করি গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকি । কাছে আসলে ডেকে দিয়ে দেব । আমি গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেলাম। মেয়েটা কাছাকাছি আসতেই খাতাটা হাতে নিয়ে তাকে ডাকলাম ।
    = এইযে শুনুন আপনার খাতাটা গতকাল ফেলেই চলে গিয়েছিলেন ।
    -
    আমার কথাশুনে মেয়েটা ভয় পেয়ে গেল । তার হাত থেকে বাকি বই গুলো হুরমুড়িয়ে পড়ে গেল ।

    (ভৌতিক রহস্যময়ী ভূতের গল্প ফেসবুক গ্রপ থেকে সংগৃহীত।) 

    ২য় পর্ব পড়তে
    এখানে ক্লিক করুন

    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় সকল পোস্ট-ই ফেসবুক থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।] 

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!