• সাম্প্রতিক

    বাউল দর্শন-

    বাল থেকে বাউল। ড. আনোয়ারুল করিম 'বাংলাদেশের বাউল' ব‌ইয়ে বলেছেন, বাউল শব্দ এসেছে প্রাচীন দেবতা বাল থেকে। কোরআন ও বাইবেলে যার পূজা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা ছিল প্রাচীন যৌ.নত।র দেবতা। অনেক বাউল তার পূজা করে।

    বাতুল থেকে বাউল। বাতুল মানে পাগল। যারা সমাজে পাগল বলে পরিচিত, তাদেরকে বাউল বলে।
    বাউলরা কোনো মসজিদে যায় না, কোনো মন্দিরে যায় না, কোনো আসমানী ধর্মগ্রন্থে তাদের বিশ্বাস নেই।
    তাদের মূল কাজ হলো যৌন।চ।রের মাধ্যমে এবাদত করা।
    তারা মনে করে দেহই হলো পরম সম্পদ। দেহেই সৃষ্টিকর্তা আছে।

    আহমদ শরীফ 'বাউল তত্ত্ব' ব‌ইয়ে লিখেছে, “কামাচার বা মিথুনাত্মক যোগ সাধনাই হলো বাউল পদ্ধতি।”
    বাউলদের সাধনায় একজন পুরুষের জন্য একজন নারী লাগবেই। বিয়ে হওয়া জরুরি নয়, অন্যের স্ত্রীও হতে পারে।
    পরকীয়া তাদের ধর্মে বৈধ।
    গাঁজা পান করা তাদের সাধনায় বৈধ।
    বাউলরা তাদের যৌন।চ।র বুঝাতে সাধারণত প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করে।

    সুধীর চক্রবর্তী 'গভীর নির্জন পথে' ব‌ইয়ে কিছু উদাহরণ লিখেছেন। যেমন,
    অমাবস্যা = নারীর ঋতুকাল।
    বাঁকা নদী = নারীর যৌনী।
    কুমারী = কাম।
    লতা = সন্তান।
    চন্দ্র সাধন = মলমূত্র পান।
    তাদের গানগুলোতে যৌন প্রতীক, সময়, মুহূর্ত, কৌশল সবই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    নেয়ামত আলী লালন পরিভাষা ব‌ইয়ে বলেছেন, “বীজ, কৃষি, মিন, সাধন—সব শব্দ যৌনকর্মের বিভিন্ন মুহূর্তকে বোঝায়।”

    উদাহরণস্বরূপ:
    'সময় গেলে সাধন হবে না' এই গানকে অনেকেই আধ্যাত্মিক গান মনে করেন কিন্তু গবেষকরা বলেছেন, এটি আসলে ঋতুস্রাবের আগের সময়ে অ.বৈ. ধ যৌনাচার করার ইঙ্গিত।

    [সূত্র: বাংলাদেশের বাউল। লালন পরিভাষা]

    'বাড়ির পাশে আরশি ননগর' এই গানকে মানুষ আধ্যাত্মিক মনে করলেও গবেষকদের মতে এটি নিছক যৌনতার প্রতি ইঙ্গিত। সূত্র: (বাংলাদেশের বাউল)

    তারা মনে করে রোগ সারানোর জন্য নারীর রজ পান করতে হবে। রজ মানে: কুমারীর প্রথম মাসিকের রক্ত, অথবা নারীর যৌন উত্তেজনার সময় নির্গত পদার্থ।
    তারা মনে করে স্তনের দুধ পান করলে রোগ ভালো হয়।
    তারা বলে সর্ব রোগের মহৌষধ হলো- মল, মূত্র, রজ ও বীর্য মিশিয়ে তৈরিকৃত'প্রেম ভাজা' খাওয়া। সূত্র: বাংলাদেশের বাউল।

    কোরআন সম্পর্কে তারা বলে, “একেক যুগে একেক কালাম এসেছে, একটাতে হালাল, আরেকটাতে হারাম। তাহলে সব মানুষের লেখা।”

    সুধীর চক্রবর্তী 'ব্রাত্ত লোকায়তন' ব‌ইয়ে উল্লেখ করেছেন,
    ১৯৮৬ সালে লালনের আখড়ায় কোরআনখানি চালু হলে বাউলরা প্রতিবাদ করে।
    তারা বলে, “আমাদের কালিমা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লালন রাসুলুল্লাহ।”
    কিছু বাউল প্রকাশ্যে দাবি করে,
    “লালন বাংলার নবী।” (নাউজুবিল্লাহ) 

    সংক্ষিপ্ত আকারে এই হলো বাউল নামা।
    _______________________________

    সবগুলো বক্তব্য গবেষকদের বই থেকে নেওয়া হয়েছে:

    ড. আহমদ শরীফের, বাউল তত্ত্ব।
    ড. আনোয়ারুল করিমের বাংলাদেশের বাউল।
    সুধীর চক্রবর্তীর গভীর নির্জন পথে, ব্রাত্ত লোকায়তন।
    নেয়ামত আলীর লালন পরিভাষা।

    ( Salahuddin এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)





    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!