নিজের শরীর ঢাকতে দিতে হতো 'ট্যাক্স'! ইতিহাসের এক জঘন্য কালো অধ্যায় ও একজন নায়কের গল্প...
ছবিটার দিকে একটু ভালো করে তাকান। কী মনে হচ্ছে? কোনো সাধারণ ঝগড়া? না! এটি ইতিহাসের এমন এক অমানবিক মুহূর্তের চিত্র, যা শুনলে আপনার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে।
ভাবতে পারেন? এমন এক সময় ছিল যখন নারীদের পোশাক পরা বা নিজের ব*ক্ষ আবৃত করাটা ছিল অপরাধ!
দক্ষিণ ভারতের কেরালা (তৎকালীন ত্রাভাঙ্কোর রাজ্য)। সেখানে এক অদ্ভুত ও পৈশাচিক নিয়ম চালু ছিল, যার নাম "মুলাক্কারাম" বা স্তন কর।
সেখানকার তথাকথিত উচ্চবর্ণের এবং ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিয়ম করেছিল— যারা সমাজে 'নিচু জাতে'র নারী, তারা তাদের শরীরের ওপরের অংশ ঢাকতে পারবে না। তাদের সবসময় বিবস্ত্র বা খোলা গায়ে থাকতে হবে, যাতে উচ্চবর্ণের পুরুষরা তাদের দেখে মজা নিতে পারে এবং তাদের নিচু অবস্থান মনে করিয়ে দিতে পারে।

আর যদি কোনো নারী নিজের লজ্জা নিবারণ করতে চাইত? যদি সে চাইত নিজের ব*ক্ষ এক টুকরো কাপড়ে ঢাকতে? তবে তাকে রাজার কাছে দিতে হতো মোটা অঙ্কের ট্যাক্স বা কর! কাপড়ের মাপ আর স্তনের আকার দেখে ঠিক হতো সেই করের পরিমাণ! কী জঘন্য মানসিকতা!
ঠিক সেই অন্ধকার সময়ে আশার আলো হয়ে এসেছিলেন মহীশূরের বাঘ, হজরত ফতহ আলী টিপু সুলতান শহীদ (রহ.) ।
তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের প্রজা দরদী শাসক। তিনি যখন দেখলেন, মানুষের সম্মানের চেয়ে জাতপাত আর এই নোংরা নিয়ম বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তিনি গর্জে উঠলেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিলেন— ❝মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। কারো জন্ম তাকে ছোট বা বড় করতে পারে না। নারীর সম্মান সবার আগে।❞
তিনিই সেই শাসক যিনি এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হলেন। তিনি নারীদের বোঝালেন, শরীর ঢেকে রাখা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তাদের জন্মগত ও মৌলিক অধিকার। তাঁর শাসন আমলেই এই প্রথা দুর্বল হতে শুরু করে। তিনি তলোয়ার দিয়ে শুধু ইংরেজদেরই তাড়াননি, সমাজ থেকে এই নোংরামিকেও তাড়াতে চেয়েছিলেন।
পরবর্তীতে এই আগুনের রেশ ধরেই ‘নাঙ্গেলি’ নামের এক সাহসী নারী প্রতিবাদ করেছিলেন এক লোমহর্ষক উপায়ে। ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করে তিনি নিজের স্ত*ন নিজেই কেটে কলাপায় মুড়ে ছুড়ে মেরেছিলেন সেই সব ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখের ওপর! সেই রক্তস্রোতেই ধুয়ে মুছে গিয়েছিল এই জঘন্য প্রথা।
আজ আমরা যে স্বাধীনতার কথা বলি, নারীরা যে সম্মানের সাথে শরীর ঢেকে চলতে পারে— তার পেছনে আছে টিপু সুলতানের মতো শাসকদের ন্যায়বিচার আর নাঙ্গেলির মতো নারীদের আত্মত্যাগ।
ভেবে দেখুন, আজ আমরা পোশাক নিয়ে কত অবহেলা করি, অথচ একদিন এই পোশাক পরার জন্যই মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে! স্যালুট জানাই সেই সব বীরদের, যারা আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
(
Roj Khobor - ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments