হাসান মাসুদের জীবন সত্যিই এক অনুপ্রেরণা। তিনি ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘ কোর্স শেষ করে কমিশন লাভ করেন এবং ক্যাপ্টেন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯২ সালে নিজ ইচ্ছায় অবসর নিয়ে তিনি পুরোপুরি দেশের কল্যাণ ও শিল্প-মাধ্যমে ব্রতী হন।
সেনা জীবনেই তার নেতৃত্ব-গুণ, সংগঠনের দক্ষতা এবং দেশপ্রেম এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, সেই গুণগুলো পরবর্তী কর্মজীবনে তিনি সফলভাবে ব্যবহার করেছেন। সেনা জীবনের শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্মত্যাগ তার সাংবাদিকতা ও অভিনয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
অবসর গ্রহণের পর হাসান মাসুদ স্পোর্টস সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর কলম ছিল সত্যের দুই–ধারায়। পরবর্তীতে তিনি যুক্ত হন বিবিসি বাংলা সার্ভিসে, যেখানে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন।
সাংস্কৃতিক দুনিয়ায় প্রবেশ তাঁর জন্য ছিল এক নতুন অধ্যায়। অভিনেতা হিসেবে প্রথমে পরিচিতি পান মস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ছবি “Bachelor”-এ, যার পর আরও অনেক সিনেমা ও নাটকে তার প্রতিভা ফুটে ওঠে — যেমন Made in Bangladesh, “House Full”, “Taxi Driver”, “Graduate” এবং আরও অনেক জনপ্রিয় নাটক।
গানেও তাঁর সুরময় দক্ষতা — “Bachelor” ছবিতে তিনি গেয়েছেন “Ajke Na Hoy Valobasha”, এবং ২০০৬ সালের ভ্যালেন্টাইনস-ডেতে প্রথম মিউজিক অ্যাসালবাম ‘Hridoy Ghotito’ প্রকাশ করেন, যার প্রতিটি গানেই আছে তার হৃদয়ের অনুভূতি।
ব্যক্তিগত জীবনে হাসান মাসুদ পুরোপুরি এক গুণী মানুষ। সেনাবাহিনীর কঠোরতা, সাংবাদিকতার সততা এবং অভিনয়ের সৃজনশীলতা — সবই তার চরিত্র গঠন করেছে। তার ক্যারিয়ার এই মসৃণ গতি, কিন্তু পিছনে লুকিয়ে রয়েছে চ্যালেঞ্জ ও আত্মত্যাগের গল্প, যা অনেকের অজানা।
এখন যখন তিনি হাসপাতালে লড়ছেন, আমাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা এবং সমর্থন আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। আসুন সবাই মিলে দোয়া করি যে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন, এবং আবারও আলোর মত সামনে দাঁড়ান — যেমন সেনাবাহিনীর এক গর্বিত অফিসার, এবং সবার প্রিয় শিল্পী।
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments