পোষা প্রাণী পালা আমাদের জীবনে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উপলব্ধি এনে দেয়। তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল, তারা আমাদের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় বাঁধা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেকেই সামান্য অসুবিধা বা পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও বোঝা মনে করে তাড়িয়ে দেন বা দূরে ছুড়ে ফেলে দেন ।
একবার ভাবুন, চরম বিপদের দিনে যদি দয়াময় আল্লাহও আপনাকে এভাবে ছেড়ে দেন, তখন আপনার অবস্থা কী হবে?
অন্যদিকে, যদি সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও আপনি আপনার উপর নির্ভরশীল প্রাণীটিকে বা
কোনো অসহায় মানুষকে আঁকড়ে ধরে রাখেন, তবে হয়তো দয়াময় আল্লাহতায়ালাও কখনো আপনাকে ছেড়ে দেবেন না—হোক তা এই দুনিয়ায় বা পরকালের কঠিনতম মুহূর্তে।
হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন, যে তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে।’ (বোখারি, হাদিস : ১৭৩২)
প্রাণীদের অহেতুক কষ্ট দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ। শুধু মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতে হবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়; বরং পশু-পাখি ও জীব-জন্তু সহ সকল প্রাণীর প্রতি সদাচার করা উচিত। সাহল ইবনুল হানজালিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুল (সা.) এমন একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন; অনাহারে উটটির পেট পিঠের সঙ্গে লেগেছিল। তখন রাসুল (সা.) বললেন, "তোমরা এসব বাকশক্তিহীন পশুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো"।
মহানবী (সা.) আরও বলেন, "যে ব্যক্তি দুনিয়ায় অপরের একটি প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে, পরকালে আল্লাহ তার ১০০ প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন এবং বান্দার দুঃখ-দুর্দশায় কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে আল্লাহ তার প্রতি করুণার দৃষ্টি দেন।" (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৬)
তাই, যারা আপনার উপর নির্ভরশীল—হোক সে পশু কিংবা মানুষ, তাদের হাতটি কখনো ছেড়ে দেবেন না। ভালোবাসা, দায়িত্ব, এবং মমতার বন্ধন কেবল সুখের দিনে নয়, বরং কঠিন সময়েও অটুট থাকা উচিত।


পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, "এমন কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করবে ? তাহলে তার সেই কর্জকে তার জন্য আল্লাহ বহুগুণ বর্ধিত করে দিবেন এবং আল্লাহই সীমিত ও প্রসারিত করে থাকেন এবং তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।’ (সুরা বাকারা: ২৪৫)
উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহকে কর্জ বা ঋণ দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর পথে খরচ করা। গরিব, অসহায় ও বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করা। হোক সে মানুষ বা অন্য কোনো প্রানী- একে ঋণ বলা হয়েছে রূপকার্থে। কেননা এর বিনিময় দেওয়া হবে অতি উত্তমরূপে।
বস্তুত প্রাণীর প্রতি দয়া ও ভালোবাসা আমাদের মানবিকতার প্রতিচ্ছবি। তারা কথা বলতে পারে না, তবু অনুভূতি প্রকাশ করে নিঃশর্ত ভালোবাসায়। একফোঁটা পানি, একটু আশ্রয় কিংবা একটু আদর তাদের জীবন বদলে দিতে পারে। রাস্তয় একটুখানি খাবার ফেলে না দিয়ে ক্ষুধার্ত পশুর মুখে তুলে দিলে, কিংবা আহত পাখির যত্ন নিলে, পৃথিবীটা আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মেই প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা রয়েছে। প্রকৃতির এই অসহায় সঙ্গীদের প্রতি ভালোবাসা দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আসুন, আমরা সবাই প্রাণীদের প্রতি আরও যত্নশীল হই, কারণ দয়া ছড়িয়ে দেওয়াই প্রকৃত মানবতা।
রাসুল (সঃ) বলেছেন-"তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমান বাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)
---আলী ইউছুফ
(
দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments