মদীনায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছিল ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজা। তারা চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ঘেরাও করেন। বনু কুরাইজা যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে, তখন তারা তাদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত সাহাবী আবু লুবাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে সাহায্য চান। তাদের মুখে হতাশা, ভয়ে চোখ ভিজে গেছে কান্নায়। তারা জিজ্ঞাসা করলো, "আমরা যদি আত্মসমর্পণ করি, তবে আমাদের
ভাগ্যে কী ঘটবে?"
আবু লুবাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু এক মুহূর্ত ভাবলেন, কিন্তু নিজের অবচেতন মনেই তিনি ইঙ্গিত করে ফেললেন যে, তাদের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। কথাটি উচ্চারণের পরই তার বুক কেঁপে উঠলো। মনে হলো, বিশাল এক পাথর তার অন্তরে চেপে বসেছে। তিনি বুঝতে পারলেন যে, অজান্তেই তিনি মুসলিমদের গোপন সিদ্ধান্ত ফাঁস করে ফেলেছেন।
তার অন্তরে প্রচণ্ড অনুশোচনা দানা বাঁধলো। কী করলেন তিনি! কীভাবে নিজের দায়িত্ব ভুলে গেলেন! তিনি কাঁপতে কাঁপতে মসজিদে নববীতে ছুটে গেলেন। সেখানে পৌঁছেই নিজেকে মসজিদের এক খুঁটিতে বেঁধে ফেললেন। তিনি দৃঢ় সংকল্প করলেন, "যতক্ষণ না আল্লাহ আমার তাওবা কবুল করেন, আমি এখান থেকে মুক্ত হবো না।"
এভাবেই চলতে থাকলো দিন-রাত। মুসল্লিরা নামাজ পড়ে ফিরে যায়, কিন্তু তিনি খুঁটিতে বাঁধা থাকেন। তার স্ত্রী শুধু নামাজের সময় এসে বাঁধন খুলে দেন, তিনি নামাজ আদায় করেন, আবার নিজেকে বেঁধে ফেলেন। ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়লেও তিনি ধৈর্য ধরে থাকেন, চোখের জল অনবরত ঝরতে থাকে। অনুতাপের আগুনে তিনি যেন পুড়ে যাচ্ছিলেন।
এভাবে কেটে গেল বেশ কিছুদিন। পুরো মদীনার মানুষ জানত, আবু লুবাবা তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত।
অবশেষে একদিন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে এসে হাসিমুখে ঘোষণা করলেন, "আবু লুবাবা! আল্লাহ তোমার তাওবা কবুল করেছেন।" এই সংবাদ শুনে পুরো মসজিদ আনন্দে গুঞ্জরিত হলো।
আবু লুবাবা কেঁদে ফেললেন, আবেগে তার শরীর কাঁপছিল। তিনি সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। তারপর নিজ হাতে নিজের বাঁধন খুললেন। এটি ছিল আল্লাহর ক্ষমার এক মহান নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা এই ঘটনার শিক্ষা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য রেখে দিয়েছেন। কুরআনে তিনি বলেন:
"আর কিছু (মুনাফিক) লোক আছে, যারা নিজেদের গুনাহ স্বীকার করেছে। তারা ভালো কাজকে অন্য খারাপ কাজের সাথে মিলিয়ে ফেলেছে। আশা করা যায়, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আত-তাওবা: ১০২)
এই আয়াতের মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতি জানলো—আল্লাহ তার বান্দাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেন, যদি তারা খাঁটি অন্তরে অনুতপ্ত হয় এবং তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করে। আবু লুবাবার এই কাহিনি আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের তাওবা করলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করেন, আর আল্লাহর দরজা কখনোই অনুতপ্তদের জন্য বন্ধ হয় না।
ছবিটি কাল্পনিক। ছবিটি উক্ত গল্পের আলোকে তৈরি করা হয়েছে। এটি আবু লুবাবা (রা.)-এর অনুতাপের মুহূর্তটি কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখানে তিনি মসজিদে নববীর একটি খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় আল্লাহর ক্ষমার জন্য কাঁদছেন। আশেপাশে সাহাবীদের মমতাপূর্ণ দৃষ্টিও দৃশ্যমান।
(
দেশের গল্প-দশের গল্প/জীবনের গল্প-যৌবনের গল্প -ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত )
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments