২০২৩ সালের ১ মে কলম্বিয়ার কাকেতা ও গুয়াভিয়ারে অঞ্চলের মাঝামাঝি ঘন আমাজন জঙ্গলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানে ছিল একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্য। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় চার শিশু।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল ১৩ বছর বয়সী লেসলি জ্যাকোমবায়রে মুকুতুই। তার সঙ্গে ছিল ৯ বছরের বোন সোলেইনি, ৪ বছরের ভাই তিয়েন এবং মাত্র ১১ মাস বয়সী শিশু ক্রিস্টিন।
দুর্ঘটনার পর তাদের মা প্রথমে বেঁচে ছিলেন। কিন্তু চার দিন পর তিনি মারা যান।
এরপর শুরু হয় লেসলির অবিশ্বাস্য সংগ্রাম।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে একসঙ্গে তিন ছোট ভাই-বোনের দায়িত্ব নিতে হয়। বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া ইউকা বা কাসাভার আটা ছিল তাদের প্রধান খাবার। সেটি পানিতে মিশিয়ে খেত তারা। ছোট্ট ক্রিস্টিনকে খাওয়ানোর জন্য পাতার ডগা দিয়ে অল্প অল্প করে সেই মিশ্রণ তার মুখে দেওয়া হতো।
জঙ্গলের মধ্যেই ক্রিস্টিনের এক বছর বয়স পূর্ণ হয়।
এদিকে শিশুদের খুঁজতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে উদ্ধারকারী দল। ঘন জঙ্গল, খারাপ আবহাওয়া আর বিশাল এলাকা তল্লাশিকে কঠিন করে তুলেছিল।
শুধু চিৎকার করে ডাকলে কাজ হচ্ছিল না। তাই উদ্ধারকারীরা অন্য এক কৌশল নেয়।
শিশুদের দাদির কণ্ঠ রেকর্ড করা হয়। তিনি হুইতোতো ভাষায় কথা বলেছিলেন, যে ভাষাটি ছোটদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত ছিল। সেই রেকর্ডিং লাউডস্পিকারে বাজিয়ে দিনের পর দিন জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়তে থাকে উদ্ধারকারী বিমান।
সেখানে বলা হয়েছিল, “লেসলি, আমি তোমার দাদি। তোমার কাছে একটা অনুরোধ করছি। শান্ত থেকো এবং যেখানে আছ, সেখানেই থাকো।”
অবশেষে ৯ জুন, দুর্ঘটনার ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আড়াই মাইল দূরে ছিল।
তখন তারা পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং ওজনও অনেক কমে গিয়েছিল। পরে তাদের বিমানে করে বোগোতার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
(
ইতিহাসের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]
No comments