• সাম্প্রতিক

    ভাব-পাগল

     
    যখন ই- মেইল ছিল না তখন রবীন্দ্রনাথ,বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন। 
    যখন হলদিরাম ছিল না, তখন নকুড়, দ্বারিক, পুঁটিরাম ছিলেন।
    যখন সেলফি ছিল না, তখন মানব মনে মাটি আর জমিনের ছবি আঁকতেন  মানব মনের সাধক 'লালন ফকির।"
    যখন বহুতল ভবন ছিল না, তখন বাংলায় ছিল জসীমউদ্দিনের নকসী কাথার মাঠ, ধু ধু প্রান্তর।
    যখন শুধু রেডিও ছিল তখন হেমন্ত, দেবব্রত, সুচিত্রা, প্রতীমা, কণিকা ছিলেন।
    যখন স্মার্ট ফোন  ছিল না তখন জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন। 
    যখন ইউটিউব ছিল না, তখন সত্যজিৎ, মৃণাল, ঋত্বিক ছিলেন।
    যখন মেট্রোরেল ছিল না, তখন কবিরা ডবল ডেকারে রাত্রি-শাসন করতেন। আর ছিল বিভুতির 'পথের পাচালী'র অপু ধূলোমাখা রেল পথের দিগন্তে অবাক
    দু-নয়ন।

    যখন ট্যাক্সি,উবার ছিল না, তখন বিদ্যাসাগর হেঁটে পাড়ি দিতেন দূরের পথ মাইল কে মাইল।
    যখন ডিজে মিউজিক ছিল না, তখন জবাকুসুম ভোরে 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার' গাইতেন, 
    'পাখি সব করে রব।'
    আমরা তা হলে কীসে এগোলাম !'
    আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে অনেক কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনুভুতিগুলো। 
    এখন মানুষ রোবট হচ্ছে। উন্নত থেকে উন্নত হবে দিনকে দিন। 
    আমাদের প্রধান উপদেষ্টা একবার  এক জনপ্রিয় ক্রিকেটার নিয়ে মন্ত্বব্যে বলেছিলেন,
    ' আমাদের প্রয়োজন দামী কোহিণূর পাথর। কিন্তু পাথরের কাছে আমরা আবেগ,অনুভুতি,সহানুভুতি 
    এগুলো আশা করতে পারি না।'

    আসলেই মানুষ আধুনিকতার দৌড়ে আজ অনেক অনেক সন্দেহতীত ভাবে এগিয়ে গেলেও মানবিকতা আর অনুভুতি যেন আজ ক্রমশ বিলীনের পথে।
    তাই অনিয়ম আজ নিয়মে'র স্থান নিয়ে নিচ্ছে।
    সংবাদের 'শিরোনাম হয়ে যেতে হয় এভাবে 'মহত্বের
    পরিচয় দিলেন তিনি কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ ফেরত দিয়ে।' 
    যে আদর্শ লিপিতে সততা ছিল স্বাভাবিক আজ কালের
    বিবর্তনে সততা যেন সমাজের এক অস্বাভাবিক আর বিরল ঘটনা।
    মানুষের মনের সভ্যতার মৃত‍্যূ ঘটিয়ে কিভাবে মানব সভ্যতার বিকাশ হয়, সে প্রশ্নের কোন উত্তর  সত্যি কারো জানা নেই।

    এই যে সভ্যতার বিপুল আয়োজন, এই যে দূরকে নিকট করার হাজার ফিকির, এই যে স্মার্ট ফোনেই বিশ্বের বিপুল তরঙ্গ, G অদম্য স্পিডে ছুটে এর আলটিমেট নিট ফল কী দাড়াবে, আর আমাদের সভ্যতার নামে অসভ্য হয়ে উঠার যে অমানবিক বিকাশ ঘটাতে সবার মধ্যে যে অমানবিক ঈর্ষা নিয়ে  অন্যের ক্ষতি করেও সামনে যাবার স্বার্থপরতা, প্রতিযোগিতা এর শেষ কোথায় কেউ কি চিন্তা করে দেখেছি ! 

    বিভূতিভূষণ লিখেছেন, 
    'যে নদীর জলে আমি প্রথম স্নান করলাম, যে গাছের নীচে বসে আমি হাওয়া খেলাম, সেটাই আমার কাছে নতুন।'
    কিন্তু এখন তো নতুন কিছু নেই। কোনও বিস্ময় নেই।
    তাই 'নতুন' এর স্বাদ কিভাবে ওরা জানবে।

     ইঁদুরের গর্ত, শকুনির ডিম, বীরু রায়ের বটতলা,... সব এখন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। 
    কোন কিছুতেই আর সেই এডভেঞ্চার নেই, রোমাঞ্চিত হতে হয় না।
    কোনও বিস্ময় নেই, কান পেতে দূরের রেলগাড়ির আওয়াজ শোনা নেই।
    চিলের কান্না, কোকিলের বিরহ, নেড়ি কুকুরের ডাক সব ডিভাইসে শুনে ফেলছি।  তাই কোনও বিস্ময় আর হতবাক  হবার নেই। 
    বিস্ময়ে তাই বলতে পারছি না,
    'বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।' 
    আকাশভরা সূর্যতারার নীচে পাগলা দাশু, পাগলা বিশু, পাগলা কানাই কেউ আজ বিস্ময় নয়নে চেয়ে রয় না।
    সত্যি আমরা বিস্ময়ের ঊর্ধ্বে উঠে গেছি আজ।
    আজকাল আর কাউকে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে হয় না। 
    নদীর ঢেউ গোনা, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ভোর দেখা হয় না, নেই কোন মনকাড়া কলকাকলী মুখর 'ভোর।'

    এই প্রজন্ম  তথাকথিত আধুনিক ছেলেমেয়েরা মুঠোফোনে পৃথিবীর খবর জানছে। 
    হয়তো  অল্প কিছুটা আবেগ আর অনুভুতি নিয়ে এই ধরণীর   রয়ে গেছে এই অনুভুতি লালন করা শেষ প্রজন্মের কিছু পাগল মন।

    আকাশ ভরা সূর্যতারার নিচে বিস্ময় নিয়ে তাকানোর মত  আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না  সত্যিই একদিন।
    তাহলে কে থাকবে ,কে জানে!
    কেউ তো থেকে যাবে এই আবেগহীন ধরায় ।
    তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় সব সোশাল সাইটেরা  থাকবে সবাইকে আন-সোশাল করার তীব্র প্রতিযোগিতায়, আধুনিক প্রজন্মদের একাকীত্বে ভরিয়ে তোলার জন্যে।
    আরও কত পাগলারা থেকে যাবে,,,
    সত্যি এই পৃথিবী এক সময় পাগলা গারদ হয়ে যাবে
    'সাধের পাগলে' ,,,,
    শুধু ভাবের পাগলের আর দেখা মিলবে নাহ্,,,,,
    সব পাগলে পাগলা গারদে থাকলে  মনে মনে শান্তির হাওয়া বইবে বৈকি,,,!

    সম্পাদনাঃ ...🖋 পিয়াল

    ( বিশ্বসাহিত্য পরিবার ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত ) 



    👉 👉 [এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টগুলো ফেসবুক এবং ইমেইল থেকে সংগৃহীত। উক্ত লেখার বক্তব্য ও দায়-দায়িত্ব লেখকের একান্ত নিজস্ব। তাই প্রকাশিত লেখার বিষয়ে কোনো মতামতের জন্য এডমিন দায়ী নয়।]

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728
    ❌

    আমরা আপনাকে বিনামূল্যে আমাদের আপডেট গুলি পাঠাতে যাচ্ছি। প্রথমে আপনার অনুলিপি সংগ্রহ করতে, আমাদের মেইলিং তালিকায় যোগ দিন। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, অকেজো তথ্য প্রেরণ করে আপনাকে বিরক্ত করবো না। সুতরাং কোনও আপডেট মিস করবেন না, সংযুক্ত থাকুন!